জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন নিশ্চিতের দাবীতে মানববন্ধন

0
61

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, রায়হানুর রহমান, ২৮ নভেম্বর: স্পেনের মাদ্রিদে আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে ‘প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা’ নিশ্চিতের দাবিতে আজ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), লক্ষ্মীপুর, টিআইবি এর উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সনাক, লক্ষ্মীপুরের সভাপতি প্রফেসর মাহবুব মোহাম্মদ আলী, সহসভাপতি প্রফেসর জেডএম ফারুকী ও পারভীন হালিম, ‘জলবায়ু অর্থায়নে সুশান’ বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায় প্রফেসর কার্ত্তিক সেনগুপ্ত, সদস্য আবুল মোবারক ভূইয়া, গাজী গিয়াস উদ্দিন ও মাসুদুর রহমান খান ভুট্টু।
বিশ^ব্যাপী ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের কোটি কোটি মানুষের স্বার্থে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সনাক, লক্ষ্মীপুর আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নে জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে স্বচ্ছতা কাঠামো সম্বলিত রূপরেখা (রুল বুক) অনুযায়ী প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ও ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সহ প্যারিস চুক্তির সাক্ষরকারী দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য ১১ দফা দাবি জানায়। টিআইবি, লক্ষ্মীপুরের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল মান্নান আকন্দ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে সনাক, লক্ষ্মীপুরের সাথে সংহতি প্রকাশ করে একই দাবী উত্থাপন করে- বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি লক্ষ্মীপুর ইউনিট, স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন নন্দন ফাউন্ডেশন, সবুজ বাংলাদেশ, মেঘ ফাউন্ডেশন, ধ্রুবতারা লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা সহ সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্যবৃন্দ এবং টিআইবি লক্ষ্মীপুরের কর্মীবৃন্দ।
মানববন্ধনে বিষয় সম্পর্কে ধারণাপত্র প্রদান করা হয়। ধারণাপত্রের আলোকে বক্তাগণ বলেন- বৈশি^ক চাহিদা অনুযায়ী প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের বিষয়টি বাধ্যতামূলক না হয়ে ঐচ্ছিক হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকা স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য অনুদান ভিত্তিক অর্থায়ন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সর্বোচ্চ দূষণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তি হতে বের হযে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। ২০২০ সাল হতে প্রতি বছর প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্থায়নের প্রধান মাধ্যম সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) এ পর্যন্ত মাত্র ১০.৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত জিসিএফ হতে সর্বমোট প্রকল্প চাহিদার পরিমাণ ২০.৬ বিলিয়ন ডলার। এ প্রেক্ষিত্রে কোন উৎস হতে, কখন এবং কিভাবে প্রদান করা হবে তার নিশ্চয়তা না থাকায় ক্ষতির মাত্রা যে সামনে বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ সহ ১০টি দেশকে জিসিএফ মাত্র ১.৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে অনুমোদিত সর্বমোট তহবিলের মাত্র ০.০৭% অথচ ন্যাশনাল ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন অনুসারে শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভিযোজন বাবদ বছরে দরকার ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
বক্তাগণ আরো বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত এবং উন্নয়নশীল উভয় শ্রেণির দেশের জন্য আইনী বাধ্যতামূলক, একটি ‘স্বচ্ছতা কাঠামো’ গঠনসহ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের রুপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে। এ সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা, স্বল্পোন্নত দেশে অভিযোজন বাবদ অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় বিশেষ তহবিল গঠন করারও দাবী জানান তারা।

নিউজ: রায়হানুর রহমান।