লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় লবন নিয়ে তুলকালাম, রামগঞ্জে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

0
710

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, মাহমুদ ফারুক, ১৯ নভেম্বর: লবনের সংকট ও লবনের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর প্রচারনার কারনে হটাৎ করেই লক্ষ্মীপুর জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় লবন নিয়ে তুলকালাম সৃষ্টি হয়েছে। এসময় ভোক্তা অধিকার আইনে রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের ভাই ভাই ষ্টোর, কাজী ষ্টোর ও রহুল আমিনের মুদি দোকান এবং পানপাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ীকে ৮হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে হটাৎ করেই মুদি দোকানগুলোতে শত শত পুরুষ মহিলা লবন কিনতে ভীড় করে।


যার যার মতো করে ৫ থেকে ১০ কেজি লবন কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লবনের সংকট ও দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে শহরের দোকানে ভীড় দ্বিগুন হয়ে যায়। দোকানীরাও ৫/১০টাকা বেশি দামে লবন বিক্রি শুরু করে। মুহুর্তের মধ্যে জেলার প্রায় মুদি দোকানে লবন শুণ্য হয়ে পড়ে।
বিকাল ৩টায় বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত হওয়ার সাথে সাথে জেলার সবক’টি উপজেলা শহরে মাইকযোগে লবন ও পেঁয়াজ সংকটের বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার জন্য প্রচারনা চালানো হয়। এছাড়া বিক্রেতাদের কাছে ১ কেজির অতিরিক্ত লবন বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান ও রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে হানা দেয় রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে নিজেরাই মাইকযোগে ১ কেজির বেশি লবন কিনতে ক্রেতাদের নিষেধসহ বিক্রেতাদের সাবধান করে দেয়া হয়।
বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, ঢাকায় শুনেছি লবনের কেজি ১৫০টাকা। তাই দাম আরো বেশি হওয়ার আগেই ১ কেজি কিনেছি। আবার যদি পেঁয়াজের মতো অবস্থা হয়।
মিতালী ষ্টোরে এক মহিলা জানান, আমি তিন কেজি কিনেছি। ইন্টারনেটে ভূয়া খবর দেখার পর লবন নিয়ে হাহাকার চলছে।
আবদুর নুর ও আবু সালেহ জানান, লবনের দাম বাড়েনি। প্যাকেটের মূল্য ৩৫টাকা, দোকানীরা তাই নিচ্ছেন। তবে তারা আরো জানান, যেভাবে ক্রেতারা ৫-১০কেজি করে কিনছেন, তাতে করে যেকোন মুহুর্তে পেঁয়াজের মতো লবনের সংকট দেখা দিতে পারে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, কোনভাবেই মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে লবনের সংকটসহ দাম বাড়ানো যাবে না। কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, একটি মহল কারসাজি করে লবনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করছে। আমরা সরেজমিনে গিয়ে প্রতিটি ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দিয়েছি কোনভাবেই এককেজির বেশি লবন বিক্রয় করা যাবে না। সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে ২ বছরের কারাদ- ও ৩লক্ষ টাকা জরিমানা প্রয়োগ করা হবে।
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের সময় রামগঞ্জ থানার এস আই মহসিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে উপস্থিত ছিলো। পাশাপাশি রামগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন ও সোনাপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ: মাহমুদ ফারুক।