আল্লাহ এমপি কন্যার মনোবাসনা পূর্ণ করুন

0
145

৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বাল্য বিয়ে থেকে উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন এমপি কন্যা কাজী ওয়াফা

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, মাহমুদ ফারুক, ১১ নভেম্বর: সীমু আক্তার (১৪)। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় মা সকিনা বেগমের মৃত্যুর পর বহু কষ্টে পড়ালেখার খরছ যুগিয়ে এ পর্যন্ত আসা। বৃদ্ধ বাবা হতদরিদ্র রিক্সাচালক হানিফ মিয়ার পক্ষে তিন বোন এক ভাইয়ের পড়ালেখার খরছ চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বড় বোন ও ভাইদের বিয়ে হয়ে গেলে সীমু আক্তার একা হয়ে যান। বাবার সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরালেও নিজের লেখাপড়া থেকে পিছপা হয়নি সীমু।


বাধ্য বাবা হানিফ মিয়া সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে বিয়ে দেয়ার। জনৈক দিনমজুরের সাথে বিয়ে ঠিক করলেও বাধ সাঁধেন সহপাঠিরা। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সমাজপতিদের বিয়ে বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আকুতি জানালে বিষয়টি নজরে আসে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজি শহিদুল ইসলাম পাপুল ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কাজি সেলিনা ইসলামের জেষ্ট কন্যা কাজি ওয়াফা ইসলামের।
তিনি সীমু আক্তারের বাল্য বিয়ের খবরের সত্যতা পেয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধসহ এসএসসি পর্যন্ত সকল ধরনের খরছের ভার বহন করেন। এসএসসিতে ভালো ফলাফল করলে তিনি সীমু আক্তারকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভালো কলেজে ভর্তিরও সকল ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় শিক্ষার্থী সীমু আক্তার, তার বাবা মোঃ হানিফ মিয়া ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহপাঠিদের।
শিক্ষার্থী সীমু আক্তার জানান, ছোট বেলায় আমার মা মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টে নিজের পড়ালেখার খরছ চালিয়েছি। আমি পড়ালেখা করে অনেক বড় হতে চাই। তারপর আমার বাবা আমাকে যেখানেই বিয়ে দিক আমি মেনে নিবো।
সীমু আক্তারের বাবা মোঃ হানিফ মিয়া জানান, আমার বয়স হয়েছে। ছেলে ঢাকার একটি কোম্পানী সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করে। অন্য মেয়েদের বিয়ে হয়েছে, তারা স্বামীর সংসারে। মেয়েটি ঘরে একা তাই বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমার মেয়ের পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরছের দায়িত্ব যিনি নিয়েছেন, তাকে আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করি। আল্লাহ তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করুন।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোঃ সাহাবুদ্দিন জানান, আমরা অভিভূত। এ ধরনের উদ্যেগে প্রশংসার দাবীদার। আমরা এমপি কন্যা কাজি ওয়াফা ইসলামকে সাধুবাদ জানাই।
সমাজকর্মী সানজানা জানান, কাজি শহিদুল ইসলাম সাহেবের বড় মেয়ে কাজি ওয়াফা ইসলাম শিক্ষার্থী সীমু আক্তারের বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে প্রশাসনের সহযোগীতায় বন্ধ করেন। পরবর্তিতে তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে সীমু আক্তারের পড়ালেখার খরছসহ যাবতীয় ব্যায়ভার গ্রহন করার ঘোষণা দেন। আজকে আমরা তাকে চেয়ার টেবিলসহ আগামী এক বছরের সকল শিক্ষা উপকরন কিনে দিয়েছি, স্কুলের সকল খরছ মিটিয়ে দিয়েছি। এসএসসি পর্যন্ত সকল বিষয়ে আমাদের নজরদারী থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদাহরন। এভাবে যদি সমাজপতিরা অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে অবশ্যই একটি সোনার বাংলা বিনির্মান সম্ভব।
নিউজ: মাহমুদ ফারুক।