লক্ষ্মীপুরে নির্মান হচ্ছে রানা প্লাজার মত দ্বিতীয় ‘মরণ ফাঁদ’: সাংবাদিক দেখলেই ধাওয়া

0
776

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, সাগর ওয়াহীদ ফরহাদ, লক্ষ্মীপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর:
মনে আছে রানা প্লাজার ট্রাজেডির কথা..? ২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকাল ৮:৪৫ রাজধানী ঢাকা সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। যাতে ১ হাজার ১শ’ ৭৫ জন শ্রমিক নিহত, ২ হাজার ৫শ’ জনেরও বেশি মানুষ আহত এবং ‎৯শ’ ৯৬ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ‎ হয়। যা বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
ঠিক তেমনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নির্মান হচ্ছে রানা প্লাজার মত দ্বিতীয় ‘মরণ ফাঁদ’!
বর্তমানে হাসপাতালটির ২৫০ শর্য্যা নতুন ভবনের পিলারের কাজ চলছে। ভবনটি নির্মানের আগেই এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিএম সন্স এন্ড কনসোর্টিয়ামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, এ নির্মানাধীন ভবনের সংবাদ সংগ্রহ ও চিত্র ধারন করতে গিয়ে দফায় দফায় লাঞ্চিত হয় কয়েকজন সাংবাদিক। সর্বশেষ আজ রবিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় দুইজন সাংবাদিক। তারা জানায়, ওই নির্মানাধীন ভবনের সামনে সাংবাদিক দেখলেই ধাওয়া করে সন্ত্রাসীরা।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শর্য্যা নির্মানাধীন ভবনের স্থানটি পুকুর ও ডোবা হওয়ায় প্রায় ৭শ’ ৫০ টি পিলার (প্রতিটি ৫৩’ ফুট লম্বা এবং ১৪”/১৪” ইঞ্চি প্রস্ত) ফাইলিং করে তার উপর বহুতল ভবন নির্মান করার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি পিলার ২০/২৫ ফুট ফাইলিং করার পর বাকী অংশটুকু ভেঙ্গে কণা তৈরী করে বিভিন্ন রাস্তায় ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিএম সন্স এন্ড কনসোর্টিয়াম এর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায়, নির্মানাধীন ভবনের পিলারের ৫৩ ফুটের স্থলে ২০/২৫ ফুট ফাইলিং করা হচ্ছে, প্রতিটি পিলারেই নিন্মমানের রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্মানাধীন ভবনটি রানা প্লাজার মত দ্বিতীয় মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দুই সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা ভাংচুর করে। এসময় ডিবিসি নিউজের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি এম তৌহিদুর রহমান রেজা, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন ও দৈনিক মানবকন্ঠের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি শাকের মোহাম্মদ রাসেল গুরুতর আহত হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে আহত সাংবাদিক শাকের মোহাম্মদ রাসেল জানান, আমি ও সহকর্মী ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক সদর হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে গেলে নতুন ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিএম সন্স এন্ড কনসোর্টিয়াম এর ভাড়াটিয়া দুই সন্ত্রাসী সাদ্দাম, রহমান ও দারোয়ান পরিচয়দানকারী রবিন এলোপাতাড়ি মারধর করে আমার গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলে এবং আমাকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে। এসময় ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক শাকের মোহাম্মদ রাসেল আহত হয়ে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে এবং আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
লক্ষ্মীপুর-৩ সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।
নিউজ: সাগর ওয়াহীদ ফরহাদ।