লক্ষ্মীপুরে অপহরনের শিকার শিশু মিনহাজ ১৩ ঘন্টা পর মায়ের কোলে

0
260

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, আনিস কবির, ৫ আগষ্ট:
লক্ষ্মীপুরে দেড় বছর বয়সী শিশু মিনহাজকে অপহরণের ১৩ ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে তাকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামের একটি সুপারি বাগান থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে শিশুটিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
এর আগে মধ্যরাতে লাহারকান্দি গ্রামের এলাহীবক্স বাড়ীর নিজ ঘরে বাবা-মায়ের পাশ থেকে ঘুমন্ত শিশুটিকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে দূর্বৃত্তরা।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পরিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে একই গ্রামের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরনকারী ও মুক্তিপণ দাবীকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিশুটির পিতা মোঃ মামুন জানান, লাহারকান্দি গ্রামের এলাহী বক্স বাড়ীর নিজ ঘরে প্রতিদিনের মতো শিশু মিনহাজকে নিয়ে স্ত্রী কহিনুর ও তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত আড়াইটার দিকে শিশু মিনহাজের মা কহিনুর বেগমের ঘুম ভাঙ্গে। এসময় ঘরের বাতি জ্বালিয়ে তিনি দেখতে পান দরজা খোলা। সাথে সাথে তার স্বামী মামুনকে ডেকে ঘুম থেকে তোলেন।
এসময় দেখেন তাদের পাশে থাকা শিশু সন্তান মিনহাজ বিছানায় নেই। শিশু মিনহাজের মায়ের মুঠোফোনটিও নেই। শুরু হয় চিৎকার কান্নাকাটি। আশে পাশের মানুষ ছুটে আসে ওই বাড়ীতে। রাতে সবাই মিলে শিশুটিকে খোঁজ শুরু করেন সম্ভাব্য সব জায়গায়।
না পেয়ে রাত ৩টার দিকে সদর থানায় যান বাবা। ভোর ৫টার দিকে শিশু মিনহাজের মা কহিনুরের খোঁয়া যাওয়া ওই মুঠোফোনে প্রতিবেশী একজনের নাম্বার থেকে কল করা হয়। তখন শিশুটিকে ছেড়ে দিতে অপরপ্রান্ত থেকে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে দূর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শিশুটির বাবা-মা কান্না জড়িত কণ্ঠে শিশু মিনহাজকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান পুলিশের কাছে।
পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, আমরা অপহরণ ও মুক্তিপণের বিষয়টি জেনে পুলিশের ৪টীম জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। পরে লাহারকান্দি গ্রামের একটি সুপারী বাগান থেকে শিশু মিনহাজকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে শিশু মিনহাজকে লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
নিউজ: আনিস কবির।