হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমনের মোটরসাইকেল কমলনগরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার!

0
1774

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, মাহমুদ ফারুক, রামগঞ্জ, ৩০ জুলাই: জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের মন্তাজ মিয়ার মুদি দোকানের কর্মচারী সুমন হত্যাকাণ্ডের ৯দিন পর পুলিশ সুমনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত মোবাইলটি উদ্ধার করেছে জেলার কমলনগর উপজেলার একটি পুকুর থেকে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও তদারকি করায় এস আই কাওসারুজ্জামানের কৌশলী পদক্ষেপে আলোচিত সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মেচিত হলে রামগঞ্জ  উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার এস আই কাওসারুজ্জামানসহ একদল পুলিশ কমলনগর উপজেলার একটি পুকুর থেকে নিহত সুমনের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ২১ জুলাই রবিবার রাত ১১টায় রামগঞ্জ সোনাপুর বাজারের মুদি দোকানের কর্মচারী মোঃ সুমন (২৪)কে ডাব খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় একই দোকানের চাকুরীচ্যুত কর্মচারী মোঃ সোহেল মিঝি। রাতে সাড়ে ১১টায় সোহেলের গ্রামের বাড়ী ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ মিঝি বাড়ীর একটি বাগানে নিয়ে যাওয়ার পর সোহেল মিঝি সুমনের কাছে টাকার ধার চায়। এসময় সুমন হোসেন সোহেলের কাছে পূর্বের দেয়া টাকা ফেরত দিতে বলায় দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেলের হাতে থাকা বটি দা দিয়ে প্রথমে সুমনরে ঘাঁড়ে ও পরে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সোহেল মিঝি তার বসতঘর থেকে কোদাল ও প্লাষ্টিকের বস্তা নিয়ে আসে। পরে মাটিখুঁড়ে বস্তায় সুমনের লাশ ভরে বাগানের ডোবার পাশে লাশটি মাটিচাপা দেয়।
পরদিন ফজরের নামাজের সময় সুমনের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে সোহেল মিঝি নানার বাড়ী জেলার কমলনগর উপজেলায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে নানা বাড়ীর পুকুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমনের মোটরসাইকেল (এইচ পাওয়ার, আর ও এক্স- আর ১৫০) ফেলে দেয়। ঐদিনই হত্যাকারী সোহেল ঢাকায় চলে যায়।
এদিকে ঘটনার পরদিন রামগঞ্জ থানায় সুমনের বাবা মোঃ ইউনুছ মিয়া খবর পেয়ে চলে আসেন কুমিল্লা থেকে। রামগঞ্জ থানায় করা হয় সাধারণ ডায়েরী। কিন্তু পুলিশ কোন কূল-কিনারা করতে না পেরে তল্লাশী চালায় বিভিন্ন যায়গায়।
অবশেষে পুলিশ জানতে পারে সোহেল ও সুমন দুজনই ছিলো পারস্পারিক বন্ধু এবং ঘটনার দিন রাতেই দুজন একত্রে ফাঁড়ি দেয় অজানায়।
জোর তদন্তে নামে পুলিশ। রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাগমুদ মিঝি বাড়ী থেকে আটক করা হয় সোহেল মিঝির বাবা বাবুল মিয়াকে।
বাবা বাবুল মিয়াকে আটকের পর সোহেল মিঝি সিদ্ধান্ত নেয় আদালতে আত্মসমর্পন করবেন। বিষয়টি জানতে পারে রামগঞ্জ থানার এস আই মোঃ কাওসারুজ্জামান। ২৬ জুলাই লক্ষ্মীপুর ঝুমুর সিনেমা হলের আশেপাশের এলাকায় গোপনে অবস্থান করে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ পরে হত্যাকারী সোহেল মিঝি গাড়ী থেকে নেমে এদিক সেদিক পায়চারি করার সময় চারদিক থেকে পুলিশ তাকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল মিঝি হত্যাকাণ্ডের কথা শিকার করলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যায়গায় লাশ লুকিয়ে রাখার কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ কৌশলে সোহেলের স্বীকারোক্তি আদায় করে ২৭জুলাই বিকালে সোহেল মিঝির বাড়ীর পশ্চিম পাশের বাগান থেকে সোহেল মিঝির দেখানো মতে সুমনের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কাওসারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার মাননীয় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকারী সোহেল মিঝির ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি নিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর চার্জশীট প্রদান করা হবে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, রামগঞ্জ থানা পুলিশের প্রত্যেকটি অফিসার আন্তরিকতার সাথে কাজটি করায় এত দ্রুত রহস্য উৎঘাটন সম্ভব হয়েছে এবং  হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে গ্রেফতার করা সহজ হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধীদের গ্রেফতারে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। রামগঞ্জ উপজেলাকে শান্তির জনপদ গড়তে পুলিশ কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সহ্য করবে না। আইন আইনের গতিতেই চলবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
নিউজ: মাহমুদ ফারুক।