বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের হাত ধোয়া’র সন্মানি কম হওয়ায় সংর্ঘষ আহত ১০

0
201

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, ফরহাদ হোসেন, ২৬ জুলাই:
লক্ষ্মীপুরের এক বিয়ে বাড়িতে স্টেজে বরের হাত ধোয়া’র সম্মানি নিয়ে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বর ও বরযাত্রী নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে পৌরসভার সাহাপুর এলাকার বলিন্টিয়ার বাড়িতে (কনে পিত্রালয়) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত বর মোঃ মোরশেদুল আলম মুসা শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত করে একটি অভিযোগ করেছেন।
আহত বরের নাম মো: মোরশেদুল আলম মুসা (২৮)। তিনি পৌরশহরের বাঞ্চানগর গ্রামের বোর্ড স্কুল এলাকার আবদুল মুনাফের ছেলে। অপর আহতরা হলেন, বরের ভাই মো: ফারুক (৩৬), বোন আমেনা আক্তার (২৬) ও ফেরদৌসী (২৪) এবং ভগ্নিপতি মো: হাছান (২৯)। বরযাত্রী রুবি আক্তার (৩০), মহি উদ্দিন (৪০) ও গাড়ি চালক সুমনসহ ১০ জন।
বরের স্বজন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস পূর্বে পারিবারিকভাবেই মো: মোরশেদুল আলমের সাথে পাশ^বর্তি সাহাপুর গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। দুই পক্ষের সিদ্ধান্ত মতে আজ শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও ভোজের আয়োজনও করা হয়।
দুপুরে কনের পিত্রালয়ে স্টেজে বর’কে কনে পক্ষের কয়েকজন মেয়ে হাত ধুয়ে সম্মানি দাবি করে। বর এসময় ৫’শ টাকা সম্মানি দেয় স্টেজে থাকা কনে পক্ষের মেয়েদেরকে।
চাহিদা মতো সম্মানির টাকা না পাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে কনে পক্ষের লোকজন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কনের মামা তোফায়েল আহম্মেদ ও মামাতো ভাই ইসমাইল এবং শরীফসহ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে বর পক্ষের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তারা বরকে পিটিয়ে বরের পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিড়ে ফেলে।
এ সময় বাধা দিতে এলে বরের ভাই-বোন ও বরযাত্রীসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বর মোরশেদুল আলম মুসা বলেন, বিয়ে বাড়িতে মারামারির সময় আমার ও আমাদের লোকজনের ২টি স্মার্ট মোবাইল ফোন, নগদ ১২ হাজার টাকা ও দুই জোড়া কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে কনের আত্মীয়স্বজন। এ ঘটনায় কনের মামা তোফায়েল ও মামাতো ভাই ইসমাইল এবং শরীফসহ ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ কওে আমি সদর থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে বরের বড় ভাই আহত ফারুক বলেন, দফায় দফায় কনেপক্ষের লোকজন টাকা দাবি করেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পরও আমদের উপর হামলা করা হয়ে। তাই তিনি মনে করেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন ফারুক।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান বলেন, বিয়ে বাড়িতে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজ: ফরহাদ হোসেন।