দারিদ্রতার কষাঘাতে মৃত্যু পথযাত্রী শারমিনের বাঁচার আকুতি

0
358

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, রামগঞ্জ, ১৯ জুলাই: বাবার শারিরীক অক্ষমতার কারণে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ছোট বেলা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়ালেখার খরছ চালিয়ে বেছে নিয়েছেন নার্সিংয়ের মতো মহান পেশা। অসুস্থ্য মানুষের সেবা দিয়েছেন মন দিয়ে। দিন রাত পরিশ্রম করেছেন নিজের আর্থিক দৈন্যতা দুর করে একটু সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে। কিন্তু বিধি-বাম।
ররামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউপির ভোলাকোট গ্রামের হতদরিদ্র লুৎফর রহমানে সংগ্রামী কন্যা শারমিন আক্তার জটিল জিবিএস ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শেরে বাংলা নগর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর পথযাত্রী। চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন তার চিকিৎসার জন্য মাত্র ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। যা তার বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজনদের জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। ইতোমধ্যে চিকিৎসা ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে সর্বশ্ব খুইয়েছেন বাবা মা।
মাত্র ১০লক্ষ টাকার জন্য কি শারমিনের চিকিৎসা হবে না?
টাকার জন্য একটি সুন্দর স্বপ্নের অকাল মৃত্যু হবে?
মাত্র ১০লক্ষ টাকা হলে একটি সুন্দর মুখে ফুটে উঠবে হাঁসির ফোয়ারা, বাবা-মা, ভাই-বোন আপনজনকে ফিরে পাবে আপন করে। স্থানীয় সমাজসেবি, এলাকাবাসী-দানশীল ব্যক্তিত্ব ও বন্ধু-বান্দবদের সহযোগীতায় প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হলেও বর্তমানে টাকার অভাবে শারমিনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে।
শারমিন আক্তারের জন্য তার বন্ধু-বান্ধব ও বাবা-মা সমাজের ভিত্তবানদের কাছে করজোড়ে সহযোগীতা করার জন্য হাত পেতেছেন।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার উপজেলার ভোলাকোট গ্রামের ভূইয়া বাড়ির হতদরিদ্র লুৎফর রহমানের ৪ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে শারমিন সবার বড়। পিতার কর্মক্ষমতা না থাকায় ছোট বেলা থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়া-লেখা করছেন। পড়া-লেখার মাধ্যমে শারমিন আক্তার মানবসেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার স্বপ্ন দেখে। নিজের প্রচেষ্টায় এক আত্মীয়ের সহযোগীতায় ঢাকার মৌচাক হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে নার্সিং শেষ করে ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সের চাকুরী শুরু করেন।
সেখানে কর্মরত থাকাবস্থায় নিজ যোগ্যতায় লক্ষ্মীপুর সরকারী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সের চাকুরী পায়। চাকুরী পেয়ে দায়িত্ববোধ থেকে হাসপাতালে আগত জটিল রোগীদের সেবা দিতে থাকেন। রোগীদের সেবা করতে গিয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখতে পারেনি শারমিন। কখন যে শরীরে বাসা বাঁেধ জিবিএস ভাইরাস রোগে। ক্লাসমিট তানিয়া খন্দকার বলেন, চলতি মাসের ৭ জুলাই লক্ষ্মীপুর সরকারী হাসপাতালে কর্মস্থলে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দায়িত্বরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে। এতে দুরারোগ্য রোগ জিবিএস ভাইরাস শনাক্ত হয়। রাতেই ঢাকা শেরে বাংলা নগর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের প্রেরন করা হয়। কিন্তু টাকা না থাকায় চিকিৎসা শুরু করতে পারেনি।
দরিদ্র পিতা লুৎফর রহমানের সঞ্চিত সম্পদ বিক্রি করে ১৬ জুলাই থেকে চিকিৎসা শুরু করে। ওই টাকা দুই দিনেই শেষ হয়ে গেলে পিতা ধারস্থ হয় লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের ডাক্তারগন, এলাকাবাসী, ক্লাসমিট ও সহকর্মীদের। বর্তমানে মানুষের দানকৃত লক্ষাধিক টাকায় চিকিৎসা অব্যাহত থাকলেও দরকার আরো অনেক টাকার।
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পোদ্ধার বলেন, হাসপাতালের নার্সরা কিছু টাকা দিয়েছেন। এ টাকা দিয়ে তার চিকিৎসার কিছুই হবে না। এলাকার দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলেই কেবল সম্ভব শারমিন আক্তারের সু-চিকিৎসা।
মৃত্যু পথযাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, প্রত্যেকেই কিছু কিছু টাকা দিলে আমি সুস্থ্য হয়ে পুনরায় মানবসেবা করতে পারবো। অসুস্থ্য মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহতা আমি বুঝতে পারি।
শারমিনের চিকিৎসায় কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে শারমিনের ক্লাসমিট ও বান্ধবী তানিয়া আক্তার ০১৭৩৮৬৯০১৫৫ ( বিকাশ পার্সোনাল) নাম্বারে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন বাবা মা।
নিউজ: এডমিন।