লক্ষ্মীপুর ত্রাণ অফিসের ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ভাগ-ভাটোয়ারার সত্যতা পেয়েছে দুদক

0
238

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, আনিস কবির, ১০ জুলাই:
লক্ষ্মীপুরে ১২ কোটি টাকার ব্রীজ ও কালভার্টের কাজের টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারার সত্যতা পেয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিসে অভিযান পরিচালনা করে এ অনিয়মের সত্যতা পায় দুদক।
দুদক নোয়াখালী অফিসের সহকারি পরিচালক সোবেল আহমেদ বলেন, ১২ কোটি টাকার ব্রীজ ও কালভার্ট টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারার বিষয়টি জেনেছি। আজ জেলা ত্রাণ অফিসে অভিযান পরিচালনা করে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। টেন্ডারটি বাতিলের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনে সুপারিশ করবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারদের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
দরপত্র ক্রয়ের শেষ তারিখ ও সময় ছিল ২০ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় করতে গেলে স্থানীয় টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে কয়েকজন ঠিকাদার সাংবাদিকদের খবর দেয়। এসময় সাংবাদিকরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহুফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
বিষয়টি সাংবাদিকরা লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালকে অবহিত করলে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই কার্যালয় গুলোতে দরপত্র বিক্রয় করা হবে। কোনো অনিয়ম পেলেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
দরপত্র ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়া কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, যারাই দরপত্র (সিডিউল) ক্রয় করতে চেয়েছেন তাদের সবাইকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন স্থানীয় টেন্ডারবাজদের লোকজন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের যোগসাজসে টেন্ডারের কাজগুলো ভাগ-বাটওয়ারা করা হয়েছে। তাই আমরা দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানাই।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান জানান, সময় স্বল্পতার কারণে দরপত্র বিক্রয় করতে দেরি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ে দরপত্র নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার পিআইওদের চিঠি পাঠিয়েছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, দরপত্র বিক্রয়ে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ: আনিস কবির।