রামগঞ্জ আল ফারুক হসপিটালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আটক এমডি

0
375

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, ৮জুলাই:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে রহিমা ফেরদৌস নামের এক অদক্ষ সনোলজিষ্টের ভূল চিকিৎসায় এক নবজাতক ছেলে শিশুর করুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার দিবাগত রাতে রামগঞ্জ বাইপাস সড়কের আল-ফারুক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। সৃষ্ট ঘটনায় রামগঞ্জ থানা পুলিশের এস আই লিটনচাকমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালের এমডি মোঃ ফারুক হোসেনকে আটক করেছে। পরে রাত ২টায় স্থানীয় প্রভাবশালিদের মধ্যস্থতায় দফা রফার মাধ্যমে মৃত নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। মৃত নবজাতক শিশু উপজেলার ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের কাচারী বাড়ির আবদুল্যাহ কামালের সন্তান।
নবজাতকের বাবা আবদুল্যাহ কামাল জানান, রোববার রাতে তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে রামগঞ্জ আল-ফারুক হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালের রহিমা ফেরদৌস নামের এক অদক্ষ সনোলজিষ্ট দ্রুত প্রসূতি শারমিনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে নবজাতক শিশুকে টেনে-হিচড়ে বের করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষনিক নবজাতকের করুন মৃত্যু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই নার্সসহ হসপিটালে সবাই পালিয়ে যায়।
পরে তিনি থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ হাসপাতালের এমডি মোঃ ফারুক হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে নবজাতক শিশুর বাবার আবদুল্যাহ কামাল জানান, আমরা এ হাসপাতালে আসতে চাইনি। এক দালালের মাধ্যমে এখানে এসেছি। এখানে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার বানার্স না থাকায় অপচিকিৎসায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যপারে আল ফারুক হসপিটালের এমডি ফারুক হোসেন জানান, মূলত আফসানা মিমির লোকজন গ্রামেই হাতুড়ে চিকিৎসক দ্বারা স্বাভাবিক বাচ্ছা প্রসব করার চেষ্টা করেছেন। সেখানেই নবজাতকের মৃত্যু হতে পারে। তবে আল ফারুক হসপিটালের অভিজ্ঞ সার্জনের ব্যপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
এছাড়া রামগঞ্জ মেডিকা হসপিটালের চিকিৎসক ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদ শুক্রবার ফেমাস হসপিটালে সিজার অপারেশন করতে গিয়ে আফসানা মিমি নামের এক প্রসূতির জরায়ূতে গর্ভফুল রেখে সেলাই করে দেয়ার অভিযোগ করেছে প্রসূতির স্বামী এমরান হোসেন।
তিনি জানান, তার স্ত্রীর প্রসবযন্ত্রনা দেখা দিলে শুক্রবার রাতে ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদ তার সিজার অপারেশন করেন। কিন্তু এসময় ডাক্তার আবদুল্লাহ মাঈদ জরায়ুতে গর্ভফুল রেখে সেলাই করে দিলে সিজারের একদিন পরে প্রসূতি আফসানা মিমির প্রচন্ড ব্যথা শুরু হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় এমরান হোসেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলেও প্রসূতির স্বামী এমরান হোসেন জানান।
এ ব্যপারে ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদ জানান, এটা কোন ভুল চিকিৎসা নয়। গর্ভফুল সিজারের পর এমনিতে ঝরে পড়ে যায়।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পোদ্ধার জানান, আল-ফারুক হাসপাতালসহ উপজেলার সকল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শীগ্রয় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করীম জানান, আমার কাছে ভুল চিকিৎসার ব্যপারে ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদের বিরুদ্ধে একটি আবেদন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য তাৎক্ষনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে রিপোর্ট দিলেই উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজ: এডমিন।