লক্ষ্মীপুরে জমি দখলের চেষ্টা: ছাত্রলীগ নেতাকে গাছের সাথে বেঁধে পুলিশ দিয়েছে জনতা

0
214

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, ৭ জুলাই:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঝাউডগী এলাকায় জমি দখল করতে গিয়ে কুশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মোবারক হোসেনকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে ঝাউডগী এলাকা।
নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দা জহির মাঝি ও ইউসুফ হোসেন জানান, মেঘনার ভাঙ্গনে সব কিছু হারিয়ে এখন আমরা নিঃস্ব। বারবার নদী ভাঙ্গার শিকার হয়ে গত ১০ বছর আগে কুশাখালীর ঝাউডগী এলাকায় এক খন্ড জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তারা। বেশ কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা উক্ত জমি থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে এবং একাধিকবার হামলা চালিয়ে মারধর ও চাঁদাদাবী করে। গত শুক্রবার ভোরে মোবারক হোসেন ৫০/৬০জন সন্ত্রাসী নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় জমি দখলের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ঘেরাও করে মোবারক হোসেনকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। মোবারক হোসেনসহ জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান তারা।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছি। আমার সম্পত্তিতে কাজ করতে গেলে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতার ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমি রাজনীতি প্রতিহিংসার শিকার। গাছের সাথে বেঁধে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।
এ দিকে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেঘনার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে জহির মাঝি ও ইউসুফ হোসেন পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। মোবারক হোসেন ও ৫০/৬০জন লোক নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে।
এসময় মোবারক হোসেনকে আটক করে গাছের সাথে বেধেঁ রেখে পুলিশকে খবর দেয় জনতা। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর কি হয়েছে সেটা জানা নেই।
এ দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের য্গ্মু-আহবায়ক মো. আবু তালেব জানান. মোবারক হোসেন কুশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্বে রয়েছে। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপরাধ করলে, তার দায় ছাত্রলীগ নিবেনা। বরং অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মফিজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দু-পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে যায়। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ: এডমিন