যাত্রী দূর্ভোগ চরমে: লক্ষ্মীপুর ভোলা নৌ-রুটে ১৫দিন ফেরী বিকল

0
38

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, মাহমুদ ফারুক, ১ জুলাই:
লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুটের ফেরী কনকচাপা নষ্ট থাকায় গত ১৫দিন ধরে যাত্রীরা চরম দূর্ভোগ পড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ফেরী সংকটের কারণে মজুচৌধুরীর হাট ফেরী ঘাট এলাকায় শতাধিক পন্যবাহী গাড়ী আটকা পড়ে আছে। এতে পরিবহন শ্রমিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে ঐ রুটে চলাচলরত ফেরীটি গত ১৫ দিনে সংস্কার করছেন না।
সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চ ঘাটটি চালু করে। ওই সময় কামিনী, কৃষানী ও কস্তুরী নামের তিনটি ফেরী এ নৌপথে চলাচল করত।
এরপর বিআইডব্লিওটিএ কামিনি ও কস্তুরি নামের ২টি ফেরী প্রত্যাহর করে নেয়। বর্তমানে কনক চাপা, কিষানী ও কলমীলতা নামে তিনটি ফেরী এ রুটে চলাচল করছে। কিন্তু ফেরী কনক চাপার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় গত ১৫দিন ধরে ঘাটে পড়ে আছে। ২৫ জুন কনকচাপাটি সচল হলেও ২৬ জুন বর্তমানে কলমিলতা নামে ফেরীটি বিকল হয়ে যায়। ফেরী বন্ধ থাকায় বর্তমানে ওই নৌ-রুটে দেখা দিয়েছে ফেরী সংকট। এতে যাত্রী ও চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে ফেরীতে উঠতে সিরিয়াল নিতে যানবাহন চালককে দিতে হয় দ্বিগুন অর্থ। টাকা না দিলে দিনের পর দিন পন্যবাহী যানবাহন ঘাটে আটকে থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন চালকরা।
ফলে ঘাটের দু-পাড়ে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের চালক ও শত শত যাত্রী। অপরদিকে নাব্যতা সংকটে প্রায়ই ডুবোচরে আটকে পড়ে ফেরী। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবোচরে আটকে থাকতে হয় ফেরী। ফেরী সংকটের কারনে যথা সময়ে গন্তব্য পৌঁছতে পারছেনা যানবাহন। ফলে মানুষ যথা সময়ে তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না।
ভোলা গ্রামী ট্রাক চালক এরশাদ উল্যাহ জানান, তিনি চট্রগাম থেকে পন্য নিয়ে ভোলার উদ্যেশে যাচ্ছেন। গত ২দিন ধরে তিনি ঘাটে সিরিয়াল পাচ্ছেনা না। তার উপর বিকল হওয়ায় ফেরীটি বিগত ১৫দিনে মেরামতের উদ্যেগ নেয়া হয়নি। দিনের পর দিন ঘাটে আটকে থাকতে হচ্ছে। কবে বিকল হওয়ায় ফেরীটি চালু হবে, তাও জানা নেই কারও।
এ কারনে ট্রাকে কাঁচামাল ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যানবাহনের শ্রমিকরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। সঠিক সময়ে গন্তব্যে না পৌছাঁয় সীমাহীন দূভোর্গে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন চালকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লক্ষ্মীপুর-ভোলা এ নৌ-রুটে গাড়ি প্রতি সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার দুই’শ টাকা। অথচ প্রতি যানবাহন থেকে আদায় করছে ৩ হাজার ৪শ টাকা। এছাড়া ফেরীতে উঠানোর জন্য যে সিরিয়াল সেটাও মানা হয় না। টাকা দিলে সিরিয়াল পাওয়া যায়। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘাটে যানবাহন নিয়ে বসে থাকতে হয়। বিআইডাব্লিউটিসির কর্মকর্তা কর্মচারীদের অত্যাচারে অতিষ্ট যানবাহন মালিক ও চালকরা।
বিআইডাব্লিউটিসি মজুচৌধুরীরহাট-ফেরীঘাট এর সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, ফেরী কনকচাপার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বর্তমানে ফেরীটি বন্ধ রয়েছে। এটি মেরামত করা হলে দূর্ভোগ থাকবে না।
বিআইডাব্লিউটিসি, মজুচৌধুরীরহাট ফেরীঘাট এর সহকারি পরিচালক মো. কাউছার যানবাহন ও দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী ১০দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করি। সিরিয়াল বা সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছাড়া কোন বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে না ঘাটে।
নিউজ: মাহমুদ ফারুক।