রামগঞ্জে মাতৃত্ব ভাতার কার্ড আটকিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

0
246

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, রামগঞ্জ, আবু তাহের, ২৭জুন:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৬নং লামচর ইউপির সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য শামসুর নাহারের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম গৃহবধূর মাতৃত্বকালী ভাতার কার্ড আটক রেখে জনপ্রতি ৪৬০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সৃষ্ট ঘটনায় মমতাজ বেগম নামের এক ভূক্তভোগী বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সুত্রে জানায়, উপজেলার লামচর ইউপির ৭/৮/৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শামসুর নাহার মজুপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের স্ত্রী মমতাজ বেগমকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে নগদ দুই হাজার টাকা এবং ওই ভাতার একাউন্ট খোলার নাম করে পাচঁশত টাকা হাতিয়ে নেয়।
চলতি জুন মাসের ২৩ তারিখে রামগঞ্জ কৃষি ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ব্যাংকের নির্ধারিত ফরমে ভাতাগ্রহীতার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা উত্তোলন ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে মেম্বার পুনরায় আরো ২১শত টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভাতার কার্ডটি ইউপি সদস্য শামসুন নাহার নিজের কাছে রেখে দেয়।
মমতাজ বেগম বলেন, ২৩ জুন রামগঞ্জ কৃষি ব্যাংকে আমিসহ ১৫জন ভাতাগ্রহীতা একসাথে উপস্থিত হই। তখন ব্যাংক থেকে ৬ হাজার টাকা উত্তোলনের পর প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪হাজার ৬শত টাক করে হাতিয়ে নিয়ে বাকী ১৪শত টাকা ভাতাগ্রহীতাদের দিয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা বইটি নিজের কাছে রেখে দেয়।
এব্যাপারে সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য শামসুর নাহার বলেন, উপজেলা পরিষদের অনেককে ম্যানেজ করে ১০টি এবং লামচর ইউপি চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভিনকে ম্যানেজ করে ৫টি কার্ড নিয়েছি।
কার্ড নিতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যে টাকা দিতে হয়েছে সে টাকা তো কার্ডধারী মহিলাদের থেকেই নিতেই হবে।
লামচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভীন পান্নাকে সন্ধা ৬ টা থেকে ৬.১০ পর্যন্ত তিনবার কল দেয়ার পরও মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিফাত আরা সুমি বলেন, কার্ডধারী মমতাজ বেগমের দায়ের করা অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী বলেন ,সরকার বিনা মুল্যে দেওয়া ভাতার কার্ড নিয়ে যারা অর্থবানিজ্য করে সরকারে ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে, তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করীম জানান, আগামী রবিবার বিষয়টি নিয়ে আমার অফিসে বসা হবে। প্রমানিত হলে উক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নিউজ: আবু তাহের।