চাঁদপুুর- ঢাকার অসহায় এক লঞ্চযাত্রী- ক্ষমতাধর কুলি ও প্রশাসন

0
997

১৫ মে এমভি রফরফ লঞ্চটি চাঁদপুর থেকে ঢাকা পৌছাঁনোর পর দোতলা থেকে দেখা গেলো কোন এক কারনে একজন লঞ্চযাত্রীর সাথে টিকেট চ্যাকার ও কুলিদের বাগি¦বিতন্ডা। কিছু বুঝে উঠার আগেই লঞ্চযাত্রী (বয়স ২২ বা ২৩) কে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি। আরো কয়েকজন হকার ও কুলি যোগ হয়। ২য় দফায় আবারও চলে মারধর। কিভাবে যেন হামলার শিকার যুবকটি ছাড়া পেয়ে দে দৌড়। এ যাত্রায় হয়তো রক্ষা পেলো।
ঐ দিন কাজ সেরে সদরঘাঁট ইফতারী করে ভাবলাম ঘাঁটে যাই, লঞ্চ যেটা পাবো সেটায় করে ফিরবো চাঁদপুর। ঘাঁটে আসার পর গেইটে জানালো দ্রুত ঢুকেন এখনি ছাড়বে লঞ্চ। ৫টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভিতরে গিয়ে দেখি আরো জনা ৫০ পুরুষ মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। অথছ ঘাঁট খালি লঞ্চ নেই। দুইটি লঞ্চ কিছুক্ষণ পর ভিড়লেও জানানো হয় পৌনে নয়টায় কোন লঞ্চ নেই। রাত ১১টায় ছাড়বে লঞ্চ। চাঁদপুরের যাত্রীরা পড়েন চরম ফ্যাসাদে। যেখানে রাত ১১টায় চাঁদপুর থাকার কথা সেখানে ১১টায় লঞ্চ ছাড়বে! আগে কোন কারণ দর্শানো ব্যাতিরকে?
বাধ্য হয়ে সদরঘাঁট থেকে চলে আসলাম সায়দাবাদ। বাসে করে সোজা বাড়ীর পথে। অপরদিকে যারা চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ-রায়পুর-ফরিদগঞ্জ বা লক্ষ্মীপুরের যাত্রী। তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
এ ধরনের হয়রানী এখন নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা লঞ্চঘাঁটে। তার কয়েকদিন আগে, কাঁধে একটি ব্যাগ-হাতে ৫/৭কেজি ওজনের একটি পলিথিন মোড়ানে ব্যাগ। লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে ক্ষপ্পরে পড়ি লাল জামা পরা দুজন ব্যাক্তির, দুজনেই কুলি।
ঘাঁটের খাঁজনা দিন।
কিসের খাঁজনা? টিকেট কেটেই তো লঞ্চে চড়েছি পাল্টা উত্তর।
কিন্তু তারা তো নাছোড়বান্দা। হাতের ব্যাগের খাঁজনা দিতে হবে। ঝামেলার ভয়ে ২০টাকা দিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা।
শুক্রবার একটা লঞ্চ, এ মুহুর্তে নাম মনে পড়ছে না। ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছাড়া দুপুর সোয়া ১টায়। অথছ লঞ্চটি যদি তার বিশ মিনিট পর ছাড়তো তাহলে শত শত রোজাদার জুমার নামাজ বঞ্চিত হতো না।
২১ মে একজন প্রবাসী এমভি ইমাম হাসান চড়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে আসার পথিমধ্যে ১৭/১৮ বছরের দুই কুলির খপ্পরে পড়েন। এসময় তারা ঐ প্রবাসীর কাছে মালামাল বহনের (একটি লাগেজ)জন্য হাজার টাকা দাবী করেন। প্রবাসীও নাছোড়বান্দা, টাকা কেন দিবো?
আমার লাগেজ আমি কাঁধে করে লঞ্চে তুলেছি, তোমাদের কিসের টাকা দিবো। প্রয়োজনে লঞ্চের লোক মালের ভাড়া নিতে পারেন। তোমরা কিসের টাকা চাচ্ছো?
সংকট নিরসনে এগিয়ে আসেন, একজন সচেতন মানুষ। তিনি কারন জানতে চাইলে কুলিরা এবার ছেপে ধরেন মানুষটিকে। আপনার সমস্যা কী? আপনি কেন প্রবাসী এ লোকের পক্ষে দালালী করতে আসছেন?
কোন কিছু বলার থাকলে পুলিশকে বলেন, পুলিশ কি করবে?
আমরা সবাইকে টাকা দিয়ে ঘাঁট ইজারা নেই। এখানে কারো কিছু বলার নেই। আপনি আপনার কাজে যান, বেশি বাড়াবাড়ি কইরেন না।
কে-ই বা হারাতে চায় সন্মান। বাধ্য হয়ে লোকটি নিজের কাজে চলে যান।
আর আপনি যদি স্থানীয় পুলিশদের (ঘাঁট বা নৌ-পুলিশ) বিষয়টি জানান, তারা রেকর্ড করা বক্তব্য, তাদের কিছু দিয়ে দিলে তো এতো ঝামেলা হতো না। কেন এদের সাথে লাগতে যান?
ঠিকই তো, কেন যাতায়াতের এত সুন্দর ব্যাবস্থা থাকার পরও এ জানোয়ারগুলো খপ্পরে আমরা সাধারণ মানুষ পড়ি। শুধুমাত্র সময় বাঁচানোর জন্য আর জ্যামের ভয় থেকে রক্ষা পেতে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবী, এ রুটে যাত্রী সাধারণের চলাচল নির্বিঘœ করুন। হকার ও কুলিদের হাত থেকে রক্ষা করুন। প্রয়োজনে সরকারীভাবে নির্ধারিত করে দেয়া হোক যাত্রীরা কোথায়, মালামাল বহন ও কি কারনে কত টাকা প্রদান করবেন।
একটু ভেবে দেখবে কী?

মাহমুদ ফারুক
সাংবাদিক ও লেখক
২২ মে ২০১৯ইং