৪৯তম জেলা লক্ষ্মীপুর ভ্রমন শেষ করলেন বাংলাদেশী বিশ্ব পর্যটক ও লেখক এলিজা

0
103
দালাল বাজার জমিদার বাড়ীর অন্যতম স্থাপনার সামনে এলিজা বিনতে এলাহী

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, লক্ষ্মীপুর, মাহমুদ ফারুক, ৪ মে: বাংলাদেশী বিশ্ব পর্যটক ও লেখক এলিজা বিনতে এলাহী বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটনের গুরুত্ব কে তুলে ধরার জন্য ৪৮ তম জেলা নোয়াখালী ভ্রমণ শেষে শুক্রবার ৩মে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম জেলা লক্ষ্মীপুর ভ্রমন করেছেন। এ জেলা ভ্রমন শেষে এলিজার ৪৯তম জেলা ভ্রমনের পরিসমাপ্তি হলো।

দালাল বাজার কলেজের একঝাঁক স্কাউট সদস্যসহ

৩ ও ৪ মে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রায়পুরের দাদালবাজার জমিদার বাড়ী, রায়পুরের কামানখোলা জমিদার বাড়ী ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ইং সনে হিন্দু-মুসলমানদের মাঝে সংগঠিত দাঙ্গা শুরু হওয়া চৌধুরী বাড়ী পরিদর্শন করেন।
দালাল বাজার জমিদার বাড়ীর স্থাপনাশৈলি ও “লক্ষ্মীপুর” নামকরনের ইতিহাস লক্ষ্মীপুর কামানখোলা জমিদার বাড়ী পরিদর্শন শেষে এলিজা বিনতে এলাহী জানান, আমরা কাজ করছি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর এখনো অজানা। বাংলাদেশের অন্যতম জেলা লক্ষ্মীপুর। এখানে এমনকি কিছু স্থাপনা বা ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, যা অবাক করার মতো।
এ জেলাবাসীর অনেক কাজ। যদি দালাল বাজার জমিদার বাড়ীটি সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে দেশের ভ্রমনপিপাসু মানুষ ছাড়াও বিদেশ থেকেও ছুটে আসবে বিদেশী পর্যটকরা। দালালবাজার জমিদার বাড়ীকে ঘিরে হতে পারে এ এলাকার মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।

জেলার কামানখোলা জমিদার বাড়ীর সামনে বিশ্ব পর্যটক এলিজা

জানা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে “ কোয়েস্ট” (QUEST) নামক প্রজেক্ট এর আওতায় ৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে ভ্রমন করে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে হেরিটেজ পর্যটনের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করবেন স্থানীয়দের । বাংলাদেশের ‘ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া’র সহকারী অধ্যাপক এলিজা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৮টি জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের তথ্য সংগ্রহের কাজ সমাপ্ত করেছেন। ৭ম বিভাগ চট্টগ্রামের ষষ্ঠ জেলা লক্ষ্মীপুর ।
শিক্ষা ছুটিতে নেদারল্যান্ডস এর ‘দ্য হেগ ইউনিভার্সিটি অফ এপ্লায়েড সায়েন্স’ এ অধ্যয়নরত এই পর্যটকের গবেষণার বিষয়ও ‘বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে হেরিটেজ ট্যুরিজমের গুরুত্ব’।
বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি ইতোপূর্বে এশিয়া ও ইউরোপের ৪৬ দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিভ্রমণ করেছেন। এশিয়ার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রয়েছে তাঁর ২ টি প্রকাশনা, ‘এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরী’ ও ‘এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরী-২’ ।

দালাল বাজার জমিদার বাড়ীর প্রবেশদ্বারে এলিজা বিনতে এলাহী

এছাড়াও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ ও ‘এনটিভি অনলাইন’ সহ অন্যান্য পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন । এলিজা মনে করেন বিশ্ব ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ‘হেরিটেজ ট্যুরিজম’ প্রসারের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে ।
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শিক্ষা – গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন
এলিজা বলেন “১৮ বছরের বিশ্ব ভ্রমনের যাত্রায় আমার নিজেকে সত্যিকার ট্রাভেলার মনে হয়েছে যখন আমি বাংলাদেশের কোনায় কোনায় গিয়েছি । আমার দেশের সংস্কৃতি ,ইতিহাস , ঐতিয্য , মানুষ আমাকে যা আনন্দ দিয়েছে পৃথিবীর বড় বড় দেশ তা দিতে পারে নি । আমি দেখেছি গর্ব করার মত বিশ্ব মানের স্থাপনা আমাদেরও রয়েছে । প্রয়োজন শুধু সংরক্ষণ, রক্ষনা-বেক্ষন ও প্রচার প্রসারনা “ ।
৬৪টি জেলায় বৃহৎ পরিসরের কাজটি সম্পাদনের ব্যাপারে তিনি প্রশাসন, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন ।
নিউজ: মাহমুদ ফারুক।