লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মিল্কভিটা কারাখানা স্থানান্তরের প্রতিবাদে খামারীদের বিক্ষোভ

0
264
মিল্কভিটা কারখানা স্থানান্তরের প্রতিবাদে খামারীরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করছেন।

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, আবু তাহের, রামগঞ্জ, ১২ এপ্রিল:
বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিঃ (মিল্কভিটা) রামগঞ্জ দুগ্ধ কারখানা স্থানান্তরের প্রতিবাদে উপজেলার অর্ধশত দুগ্ধ খামারীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। আজ শুক্রবার সকালে রামগঞ্জ পৌর শহরের কমরদিয়া মিল্কভিটা কারখানার সামনে খামারীরা ঘন্টাব্যাপি এ বিক্ষোভ করেন।
মিল্কভিটা রামগঞ্জ দুগ্ধ কারখানা সূত্রে জানা যায়, গত ৬এপ্রিল ২০১৯ইং বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিঃ এর উপ-সচিব মোঃ শামছুল আলম স্বাক্ষরিত স্থানান্তর সংক্রান্ত একটি চিঠি রামগঞ্জ উপজেলা দুগ্ধ শীতলিকরন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করা হয়। চিঠিতে উপজেলা দুগ্ধ শীতলিকরন কেন্দ্রের ফার্মকুলার ও জেনারেটর পাংশা উপজেলায় স্থানান্তর করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে রামগঞ্জ উপজেলা অর্ধশত দুগ্ধ খামারী আজ শুক্রবার ভোর থেকে রামগঞ্জ উপজেলা দুগ্ধ শীতলিকরন কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে ঢাকা থেকে মিল্ক ভিটার সিনিয়র তত্বাবধায়ক মান্নাফ আহম্মেদসহ ৪জন কর্মকর্তা ট্রাকযোগে ঘটনাস্থলে আসলে খামারীদের তোপের মুখে পড়েন তারা।
এসময় খামারীরা রামগঞ্জ-শ্রীরামপুর ঘন্টাব্যাপি সড়ক অবরোধ করে স্থানান্তরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ব্যাপারে সবুজ বাংলা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ সমবায় সমিতি লিঃ এর রামগঞ্জ শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন সেলিম জানান, আমরা গত ১০ বছর থেকে এখানে দুধ সরবরাহ করে আসছি। কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে খামার স্থাপন করেছি। একটি চালু কারখানা কোন কারন ছাড়া স্থানান্তর হলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই।
মাঝিরগাঁও দুগ্ধ সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি আনোয়ার কবির বাচ্চু জানান, আমাদের ৩শ লিটারের চাহিদা দেয়া হলেও খামারীদের ১হাজার লিটার দুধ দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। অথছ অনেক স্থানে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও একটি চালু কারখানা স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ষড়যন্ত্র।
মিল্কভিটার সিনিয়র তত্বাবধায়ক মান্নাফ আহম্মেদ জানান, আমাদের হেড অফিস থেকে চিঠি দিয়ে পাঠানো হয়েছে অত্র অফিসের ফার্মকুলার মেশিন ও জেনারেটর পাংশা মিল্কভিটায় স্থানান্তর করার জন্য। সকালে আসছি এখনো আমাদের কাজ শুরু করতে পারিনি।
এ ব্যপারে রামগঞ্জ দুগ্ধ শীতলিকরন কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ ফরহাদ আহম্মেদ মোবাইলে জানান, আমি মৌখিকভাবে কেন্দ্র থেকে জেনেছি। আজ চিঠি পেয়েছি। চেষ্টা করছি মিল্কভিটার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানে আসতে। তিনি আরো জানান, এখানে চাহিদা অনুযায়ী দুধ না পাওয়ায় কোম্পানীর সিনিয়র কর্মকর্তারা ক্ষুব্দ।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করীম জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ অবগত করেনি।

উল্লেখ্য, সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও অত্র আসনের সাংসদ জিয়াউল হক জিয়া ২০০৫ইং সনে এ উপজেলার গরু খামারীদের জন্য ৫হাজার লিটার দুধ ধারনকৃত একটি দুগ্ধ শীতলিকরন কারখানা নির্মান করেন।
নিউজ: আবু তাহের।