বিশেষ প্রতিবেদন: ব্লাড গ্রুপ নিজের স্বার্থেই জেনে রাখুন

0
134

সন্তান সৃষ্টিকর্তার এক অপার দান। সৃষ্টিকর্তা চাইলে আপনাকে একের অধীক সন্তান দান করতে পারেন। আর তিনি না চাইলে পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই আপনাকে সন্তান দেয়ার। অনেক গরীব বাবা মায়ের কয়েকজন সন্তান। শুধুমাত্র খাবার ও যথাযথভাবে লালন পালন করতে না পারার কারনে গরীব ঘরের সন্তানরা বিভিন্ন কারনে পক্ষাঘাতগ্রস্থ বা অসুস্থ্য হয়।
আবার অনেক ধনবান ব্যাক্তির একটি সন্তানও নেই। একজন নিঃসন্তান দম্পতি আল্লাহপাকের কাছে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত কান্নাকাটি করেও সন্তান পায় না।
আগেই বলেছি সন্তান মহান রাব্বুল আলামীনের এক অশেষ দান।
মূল কথায় আসি, বর্তমান সময়ের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একজন প্রসূতির সিজার অপারেশন করাটা অনবদ্য অংশ হয়ে গেছে।
চিকিৎসকের যাওয়া মাত্রই আপনার গর্ভজাত যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, চিকিৎসক বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ আপনাকে সিজারের বিকল্প কোন রাস্তাই বাতলে দিবে না। কিছু চিকিৎসকের কারণে মানুষ এখন হসপিটালগুলোতে যেতেও ভয় পায়।
সিজার অপারেশনের সাথে একটি চাহিদা যোগ হয়েছে, তাহলো রক্তদান। সিজার এবং রক্তদান এখন নিত্তদিনের ঘটনা।
আগে মায়েদের অধীক সন্তান জন্মদানের কারনে মায়েদের বা নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা শুনতাম। তাও হাতেগোনা। সে সময় ছিলো না কোন সিজার অপারেশন।
যাই হোক মূল কথায় আসি..
একজন প্রসূতি বোন, সন্তান গর্ভে আসার পর চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। গর্ভজাত সন্তান ও মায়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
আমাদের পরামর্শ, প্রথম যেদিন চিকিৎসকের কাছে যাবেন। সেদিনই আপনার রক্তের গ্রুপটি জেনে নিবেন। তাহলে সিজার বা অপ্রীতিকর কোন ঘটনায় রক্তের প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়তে পারেন। রক্তের কোন মূল্য নেই বা তা দাম দিয়ে পরিশোধযোগ্য নয়। যখন আপনার এক ব্যাগ রক্তের দরকার হবে, তখন বুঝবেন রক্তের মূল্য কোথায়।
আপনি চিকিৎসকের কাছে গেলেন,
গর্ভজাত সন্তানের অবস্থা কী,
কয়েকবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেন,
ছেলে হবে- না মেয়ে হবে?
ছেলে হলে কি নাম রাখবেন-মেয়ে হলে কি নাম রাখবেন?
অনেকে দেখি ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয় সুন্দর নামের প্রত্যাশায়–!!
অথছ যখন প্রসূতির প্রসব যন্ত্রনা শুরু হয় বা সিজারের উদ্দেশ্যে হসপিটালে নিয়ে আসেন। হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ও নাছোড়বান্দা। আপনার সিজারের বিকল্প কোন কিছু বলতে রাজি নন তারা। অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অর্ধেক অপারেশন করার পর আপনাকে বলা হলো নির্ধারিত গ্রুপের রক্তের জরুরী প্রয়োজন।
আপনি তো রক্তের গ্রুপ জানতেন না বা কখনো কারো সাথে বিষয়টি শেয়ার বা কাউকে বলেও রাখেননি আপনার রক্তের গ্রুপ কী।
তাহলে আপনাকে বিপদে পড়তেই হবে।
আর রক্তের গ্রুপ যদি হয় এবি নেগেটিভ?
সেক্ষেত্রে এমনও হতে পারে আপনার বা সন্তানের জীবনমৃত্যু সন্ধিক্ষণে।
আর হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে অপারেশনের (যদি একান্ত বাধ্য না হন) অন্তত এক মাস পূর্বে আপনার রক্তের গ্রুপ জেনে নিবেন ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে থেকে একজন রক্তদাতা সংগ্রহ করে রাখবেন।
না হলে মারাত্মক বিপদে পড়তে পারেন যে কোন মুহুর্তে।
এছাড়া রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে কোন দূর্ঘটনায়ও দরকার হতে পারে রক্তের।
সরকারীভাবে বিয়ের পূর্বে রক্তের গ্রুপ জানা বাধ্যতামূলক করার জন্য উচ্চ আদালতে রীট করা হয়েছে,
এটাকে অন্য দিকে প্রবাহিত না করে ভালো চোখে দেখুন।
কারন স্বামী এবং স্ত্রীর রক্তের গ্রুপের সমস্যার কারনে আপনার সন্তান বিকলাঙ্গ বা ক্যান্সার থেকে আরো ভয়াবহ রোগ থেলাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।
থেলাসেমিয়া রোগীর জন্য প্রতি ১৫দিন বা এক মাস পর পর রক্ত সংগ্রহ করা যে কতটা কঠিন কাজ তা ভুক্তভোগী মাত্রই উপলব্দি করতে পারে।
দয়া করে উপরেল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন বলে বিশ্বাস করি,
কারন- বাঁচতে হলে জানতে হবে।
আমরা সুস্থ্যভাবে বাঁচতে চাই

মাহমুদ ফারুক
সভাপতি
রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাব,
০১৭১২৭১৮০২০