ফলোআপ: রামগঞ্জে নিঁখোজের তিনদিন পর শিশু নুশরাতের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

0
22175

আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম, মাহমুদ ফারুক, ২৬মার্চ: জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ২নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজে রাসুল নুরানী মাদ্রাসার ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী নুশরাত (৮) নিখোঁজের তিনদিন পর অর্ধগলিত অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ঠাকুর বাড়ীর সামনের ব্রীজের নিছ থেকে আজ সোমবার সকালে শিশু নুশরাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থা দেখা যায়। লাশ উদ্ধারের পর সোমবার বিকালে শিশু নুশরাতের গ্রামের বাড়ী নোয়াগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ী পরিদর্শন করে লক্ষ্মীপুর এ এস পি (সার্কেল) পংকজ কুমার দে।
এসময় স্থানীয় বেশ কিছু মহিলা শিশু নুশরাতের লাশ দেখে জানান, শিশু নুশরতাকে ধর্ষনের পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে বস্তা বেঁধে লাশ ব্রীজের নিচে ফেলে রেখেছে ধর্ষনকারীরা। ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন: https://www.youtube.com/watch?v=g_B-f6xfrvk&feature=youtu.be
জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩মার্চ) জুমার নামাজের আগে উপজেলার ২নম্বর নোয়াগাঁ ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও জামে মসজিদ সংলগ্ন কালা মেস্তুরি বাড়ীর প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে স্থানীয় পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজে রাসুল নুরানী মাদ্রাসার ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান নুশু (৮) নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজির পরও নুশরাত জাহানের কোন খোজ না পেয়ে পরদিন শনিবার সকালে নুশরাতের নিকটাত্মীয় আবদুল মান্নান রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করলেও নুশরাতের মা রেহানা বেগম জানান, জিডির করার দুইদিন পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। একমাত্র মেয়ের নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে সৌদি থেকে বাবা এরশাদ মিয়া রবিবার সকালে বাড়ীতে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রয়েছেন।
নিখোঁজের তিনদিন পর আজ সোমবার সকাল ১১টায় পাশ্ববর্তি কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ী সংলগ্ন ব্রীজের নিছে খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় শিশুরা একটি বস্তা দেখতে পেয়ে গ্রামের লোকজনকে জানালে এলাকাবাসী রামগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দেয়।
রামগঞ্জ থানা পুলিশের এস আই পঙ্কজ কুমার দে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় খাল থেকে বস্তা খুললে সেখানে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিশু নুশরাতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নুশরাতের মা রেহানা বেগম ও মামা জিয়াউল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে গায়ের জামা ও কানের দুল দেখে নুশরাত জাহানের লাশ শনাক্ত করে। এসময় মা ও নিকটাত্মীয়দের আহাজারীতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
লাশ উদ্ধার নিয়ে ও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের কারনে রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়া বা পুলিশের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব না হলেও ওসি তদন্ত মোঃ ফজলুর রহমান, এ এস আই কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।নিহতের মা রেহানা বেগম জানান, ২৩মার্চ শুক্রবার দুপুরে আমার মেয়ে নুশরাত নিঁখোজ হওয়ায় আমরা চারদিকে খোজ করতে থানায় একদিন পর শনিবার জিডি করি। কিন্তু পুলিশ দুইদিন পর ঘটনাস্থল তদন্তে আসেন।
এ ব্যপারে রামগঞ্জ থানার এস আই পঙ্কজ কুমার দেবনাথ জানান, বস্তাবন্দি লাশের খবর পেয়ে আমি উপজেলার ব্রহ্মপাড়ার ঠাকুর বাড়ীর ব্রীজের নিছ থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। লাশ পঁচে যাওয়ায় আলামত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ধর্ষনের মতো ঘটনা হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কাউসারুজ্জামান জানান, ২৪ মার্চ নুশরাতের নিকটাত্মীয় আবদুল মান্নান বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এসময় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নিখোঁজের সাথে সাথে জিডি না করায় আমরাও দুই দিন পর ঘটনাস্থলে যাই।
রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তোতা মিয়া জানান, শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ: মাহমুদ ফারুক।