অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমন.. পাহাড় যাদের টানে!! অপার সৌন্দয্যের হাতছানি নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, ক্লান্তির কাছে হার না মানা

0
744

দীর্ঘ ক্লান্তি, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে আর অনেকটা খুদার্ত দেহ মন নিয়ে অবশেষে পৌছলাম নাপিত্তাছড়ি ঝর্ণার দ্বারপ্রান্তে। অনেকটা মাথা গরম করা ঝর্ণাটির সৌন্দয্য। যার বর্ননা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভবও না, আবার এত বড় দুঃসাহসও নেই। যাদেরকে পাহাড়, ঝর্ণা আর অপার সোন্দর্য শুধু কাছে টানে তাদের কাছে এ এক চূড়ান্ত স্বর্গ।
আমাদেরও সীমিত সাধ্যে তা ছিলো অসীম।
রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের সদস্যরা অনেকটা দূর্বার আর অপ্রতিরোধ্য। যে কোন অসাধ্য সাধনে তাদের রয়েছে এক বুক আশা আর অসাধ্য সাধনের নেশা।
হটাৎ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ঈদের ছুটিতে যাওয়া হবে লক্ষ্মীপুরের কক্সবাজারখ্যাত চর আলেকজান্ডারে। আগের দিন রেজিষ্ট্রেশন করা হয় ১শ টাকার বিনিময়ে। খরছ জনপ্রতি পড়বে গাড়ী ভাড়াসহ ৮শ টাকা। ২০জন রাজি হয় এ টাকায় তারা আলেকজান্ডার যাবে। কিন্তু রাতে সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেন, যেহেতু আলেকজান্ডার অনেক কাছে আবার খরছও বেশি তাহলে দুরে কোথাও যাই। পরে একদিন আলেকজান্ডার যাওয়া যাবে।
ব্যস,
সিদ্ধান্ত পরিবর্তন।
অনেকটা অগোচরে থাকা আর প্রচার না পাওয়া নাপিত্তছড়া ঝর্ণাতে যাওয়া হবে নির্দিষ্ট সময়ে (১২ জুলাই, মঙ্গলবার, সকাল ৬টায়)। রাতে উৎসুক সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হলো কোথায় ভ্রমনে যাওয়া হবে। গ্রামের ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, এমনি নাচুনে বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ী। আর যায় কোথায়?
অনেক দুরের পথ, তাই ৮জন নিজেদের কাজ থাকায় যেতে পারবেনা জানালে ১২ জনই চূড়ান্ত।
ভোর ৬টায় গাড়ী আসার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারনে রওনা হলাম ৭.১৫ মিনিটে।
পথিমধ্যে যাত্রা বিরতি।
সকাল ১০.৪৫ মিনিটে মিরসরাই পৌরসভা শহর থেকে ৩ কি: মি: নদুয়ার বাজারের সামান্য অদুরে হাতের বাম পাশ দিয়ে ১ কি: মি: যাওয়ার পর মাটির রাস্তা।
সেখান থেকে প্রায় আড়াই কি:মি: রাস্তা পার হতে হবে পায়ে হেটে। যারা এখনো চিন্তা করছেন শার্ট প্যান্ট মানে ভদ্রলোকের মতো যাবেন। তারা ঝর্ণা দেখার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন। আর যারা মনে করছেন, স্ত্রী সন্ত্রান নিয়ে যাবেন অথবা বান্ধবীদের নিয়ে যাবেন তারাও দুরে থাকবেন।
যাই হোক বিসমিল্লাহ বলে যাত্রা শুরু।
গাড়ী থেকে নেমেই সবাইকে বলা হলো দ্রুত জামাকাপড় চ্যাঞ্জ করে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট আর গেঞ্জি পরতে। ১০ মিনিটেই রেডি সবাই।
শুরু পায়ে হেটে।
পথিমধ্যে কোমর পানি মাড়িয়ে পাহাড়ের এবড়ো থেবড়ো উচু নিচু পথ আর পাথরের আঘাত সহ্য করে চলছি দূর্বার গতিতে। অবশেষে ছোট ঝর্ণার কাছে গিয়ে অনেকটা হতাশ হলো সবাই। পানি নেই বললেই চলে।
অনেকটা মৃত।
ঝর্ণার বাম পাশ ঘেষে উঠতে হবে উপরে। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় খুবই পিচ্ছিল পাহাড় আর ঝর্ণা বেয়ে উঠলাম প্রথম দাফ। ৫০ গজ সামনে গিয়ে অনেকটা গুহার মতো ঝর্ণাটি দেখে মনের অবস্থা অনেক অনেক ভালো হয়ে গেলো, উৎসাহ পেলাম দুরুন্ত। এ ঝরনাটির নাম কুপিকাটাকুম। হুড় হুড় করে আমি ছাড়া নেমে পড়লো ঝরনার পাদদেশের পানিতে। বিশাল গভীর, উপর থেকে ঝরছে অঝোরে। কয়েকজন নিচে ডুব দিয়েও মাটির স্পর্শ পেলো না। পানি অনেক স্বচ্ছ আর ঠান্ডা। এ ঝরনার নামটি অনেক সুন্দর কুপিকাটাকুম। সেখানে ফটোসেশন আর ধাপাধাপিতে বেশি সময় পার না করে শুরু করলাম তৃতীয় মানে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ও বড় ঝর্ণা মিঠাছড়ি ঝর্ণার পানে। মিঠাছড়ি ঝরনার ডানের পাহাড় ঘেষে অনেকটা খাড়া পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে সবার গলদঘর্ম। এদিকে কেউই খাবার পানি নিয়ে আসেনি মনের ভুলে। প্রায় শ খানেক গজ উঠেই পানি শুন্যতার মাশুল দিতে হয়েছে সবাইকে। গলা শুকিয়ে কাঠ। তাছাড়া মিঠাছড়া ঝরনাতে নামার কারনে আর সকালের বৃষ্টিতে পাহাড় ভিজে খুবই পিচ্ছিল আর ভয়ংঙ্কর হয়ে আছে। একবার পা পিছলে গেলে প্রায় কয়েক শ ফুট নিছে। কিছুটা সমতলে আসার পর আবার উপরে উঠতে হচ্ছে পাহাড়ের কোল ঘেষে। মাত্র দেড় হাতের মতো পায়ে চলার রাস্তা। আর বাম পাশে বিশাল খাড়া পাহাড়ের নিছু অংশ। কোনভাবেই পা পিছলানো যাবে না।
চলছি।
পথিমধ্যে সমতল একটি অংশে পানি আর পাথর সাজানো অনেকটা চড়া রাস্তার মতো। এতদুর হাটা বা পাহাড়ী পথ বেয়ে উঠার পরও কারো ভিতরে ক্লান্তি বা হতাশা দেখা দেয়নি।
ছুটছি তো ছুটছি। মনে হলো এই তো, কিন্তু নাহ। আরো যেতে হবে।
কোন জনমানব না থাকায় ভুল করে উঠে গেলাম বাম পাশের খাড়া পাহাড় দিয়ে। পিচ্ছিল আর কর্দমাক্ত, সর্বপরি ভয়াবহ উচু পাহাড় বেয়ে উঠতে গিয়ে সবাই খুব ক্লান্ত। পথিমধ্যে তুষার ইমরান আর নুর হোসেন কয়েকদফায় পা পিছলে ব্যথা পেলেও ভয়ে আর লজ্জায় কাউকেই বলেনি। প্রায় বিশ মিনিট উঠার পর (আমার কাছে মনে হলো কয়েকঘন্টা) থামলাম সমতল একটি স্থানে। সেখানে উঠেই সবাই শুয়ে পড়লো মাটিতে। কিছুক্ষন ঝিরিয়ে চললো ফটোশ্যূট। আবার উপরে উঠা, ঝর্ণা দেখতেই হবে।
আরো বিশ মিনিট উঠার পর কোন ঝরনার দেখা পেলাম না। তবে মাচার উপরে তৈরি করা একটি কুড়ে ঘর দেখে এগিয়ে গেলাম । শুরু হলো অঝোরে বৃষ্টি। কুড়েঘরে একজন কৃষক আর কৃষানী আমাদেরকে খাবার পানি দিলো। ঝর্ণা কোন দিকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিলো কৃষক পশ্চিমে। কিন্তু পশ্চিম দেখিয়ে দিলেও আমরা দিক নির্নয় করতে পারলাম না। এদিকে আমার চিন্তা প্রবল। কারন সুজন আলম লালের কাঁধে মোবাইল/মানিব্যাগ রাখা ব্যাগ রয়েছে। বৃষ্টির কারনে নষ্ট হতে পারে মূল্যবান মোবাইলগুলো। অনেক কষ্টে কৃষক একটি ব্যাগ বের করে দিলে ব্যাগটি ভালো করে মুড়িয়ে আবার যাত্রা শুরু। এসময় স্থানীয়দের চাষ করা বেশ কয়েকটি কলা সাবাড় করলো জাহীদ হাসান পাভেল ও ফজলে রাব্বী।
তবে আবার নামতে হবে নিছে। কতক্ষন হাটছি মনে নেই। তবে এবার ক্লান্তি কিছুটা কম। নামলাম যেখান থেকে ভুল করে উপরে উঠেছি|
সমতলে নেমে হাটা দিলাম ডান পাশের গিরিপথ ধরে জঙ্গল আর পানি মাড়িয়ে। অনেক স্রোত আর ভয়ঙ্কর রকমের গর্ত আর বিশাল বিশাল পাথর এড়িয়ে চললাম সামনে।
মাত্র ১০ মিনিট হাটার পরই কানে ভেসে এলো গর্জন। কিসের গর্জন ?
এক যোগে সবাই চিৎকার দিলো সামনেই ঝর্ণা। চলার গতি দ্রুত হলো। মাত্র দুই মিনিটেই পৌছে গেলাম ঝরনার কাছে। হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম,
বাপরে বাপ…!!
এত পানি ?
অঝোরে ঝরছে।
এসময় আমাদের মতো কয়েকজনকে দেখলাম এগিয়ে আসতে। এতবড় ঝর্ণা আর অঝোর ধারা আমি কখনো দেখিনি। আগুন্তকরা জানালো বৃষ্টির কারনে ঝরনাটির রুপ অন্যরকম হয়েছে।
এদিকে আবার শুরু হয়েছে বৃষ্টি।
মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। ক্যামেরা মোবাইল কিছুই বের করা যাচ্ছে না।
আমিও নাছোড়বান্দা। একটি গাছের আড়ালে গিয়ে পলিথিন মুড়িয়ে আর গামছা ক্যামেরার উপর রেখে শুরু করলাম গ্যাচাং গ্যাচাং,,,,,
প্রায় অর্ধশত ছবি তুলে আর বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে তবেই থামলাম।
আমার দেখাদেখি কয়েকজন মোবাইলের মায়া না করে শুরু করলো সেলফি আর যে যেভাবে পারছে মজা করছে।
সেখানে প্রায় ঘন্টাখানেক থেকে আবার ফিরতি পথে যাত্রা।
যায়গাটার নাম কেন নাপিত্তছড়া হলো তার সদুত্তোর কেউ না দিতে পারলেও তবে গ্রামটির নাম জানলাম হেমনগর। ঝর্ণাগুলোতে যাওয়ার গিরিপথটাকেই সম্ভবত নাপিত্তছড়া বলে। ছড়া মানে পাহাড়।
যাই হোক ভয়াবহ ক্ষুদা নিয়ে নামছি নিছে। নিছেই নেমেই সবাইকে বললাম দ্রুত চলো গাড়ীর নিকট। খেতে হবে।
গাড়ীতে এসেই বললাম দ্রুত জামা কাপড় চ্যাঞ্জ করো। চলে এলাম ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের ওপার। মসজিদের ঘাটলায় গিয়ে গোসল সেরে চললাম সীতাকুন্ড বাজারের উদ্দেশ্যে। সেখানে হোটেল আমানীয়ায় দুপুরের খাবার খেয়ে ত্রিশ মিনিটের বিরতি, তখন বিকাল ৩.৪৫ মিনিট।
এদিকে আমার মাথায় চিন্তা, দ্রুত সীতাকুন্ড ইকোপার্কে ঢুকতে না পারলে চন্দ্রনাথ মন্দির (সীতাদেবীর) যেতে পারবো না।
আবার রওনা হলাম সীতাকুন্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে।
ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের গেইটের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখলাম সাইনবোর্ডে লেখা জনপ্রতি ১০ টাকা ও কার/প্রাইভেটকার ১শ টাকা করে। কিন্তু কাউন্টার কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে দাবী করলো ৪৬০ টাকা। তবে প্রশ্ন করে লাভ হলো না। কোন সদুত্তোর পাওয়া গেলো না, অন্যদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে। গেইটম্যান জানালো গাড়ী চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত যাওয়া যাবে কোন সমস্যা নেই।
গাড়ী দ্রুত ছুটলো মন্দিরের দিকে। ইকোপার্কের ঝরনা ছাড়িয়ে যেই আমাদের গাড়ী মন্দিরের দিকে যেতে চাইলো তখনি একজন ব্যক্তি নিজেকে পার্কের লোক পরিচয় দিয়ে জানালো আপনারা ওখানে যেতে পারবেন না। কারন আপনারা ফিরতে রাত হবে, রাতের বেলা ওই এলাকা নিরাপদ না। বাঘ ভাল্লুক না, সেখানে চিনতাইকারীদের হামলা ও মূল্যবান মালামাল খোয়ানোর ভয় আছে।
যতই বুঝানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, তিনি নাছোড় বান্দা।
তিনি জানালেন, গত রমজানে একটি হত্যার ঘটনার জেরে তাদেরই এক লোক জেলে আছেন।
মূল গেইট থেকে অনুমতি মিললে কোন সমস্যা নেই। আমি নিজেকে তার কাছে আমার পরিচয় দিলে তিনি কিছুটা নমনীয় হলেও জানালেন, স্যার দয়া করে গেইটে দায়িত্বরত কাউকে আপনি ফোন করে দিন, তাহলে আমার সমস্যা হবে না। তার কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে কল করলে গেইটের দায়িত্বরত জানালো আপনি চন্দ্রনাথ মন্দিরের দায়িত্বরত পুলিশদের একটা ফোন দিয়ে গেলে আমরা বেচে যাই। আমার কাছে চন্দ্রনাথ মন্দির পুলিশ ক্যাম্পের নাম্বার থাকায় তাদেরকে ফোন করলে উত্তরে তারা জানালো দয়া করে সবাই একসাথে আসবেন, কোন অবস্থাতেই আলাদা হওয়া যাবে না।
আমি ওকে, বলে যাত্রা শুরু করলাম মন্দিরের চূড়ার দিকে। এতটা ভয়াবহ আর পিচ্ছিল রাস্তা দেখে বুকের ভিতরে হিম হয়ে গেলো। কোথাও কোথাও এতটা সরু মনে হলো এই বুঝি বাঘ ভাল্লুক এসে আমাদের উপর হামলে পড়লো। বেশ কয়েকবার পিছলে পড়ে পড়ে প্রায়ই সাড়ে ৩ কি: মি: ভয়ংঙ্কর উচু নিচু পথ পাড়ি দিয়ে পৌছলাম মন্দিরে। বেশ কিছু ছবি তুলে আর মন্দিরের রুপকথা শুনে আবার সবাইকে তাগাদা দিলাম দ্রুত নামতে হবে, রাত নামার আগেই। যতই বলি কাউকেই থামানো যাচ্ছে না, সেলফি তোলা আর ক্যামেরায় ছবি তুলতে সবাই ব্যস্ত। স্থানীয় পুলিশ অফিসার জানালো মন্দিরের চূড়া মাটি থেকে প্রায় ১৮শ ফুট, কেউ কেউ বলছেন ২২শ ফুট।
দ্রুত নামছি। কিন্তু ইটের সলিংয়ে শ্যাওলা পড়ে রাস্তা অনেক পিচ্ছিল হওয়ায় নামাটা কিন্তু সহজ হচ্ছে না। একবার পা রাখলে কয়েকফুট পিছলে নিছে নেমে যাচ্ছি, ভয়ংঙ্কর অবস্থা। এদিকে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। কয়েকটি মসজিদ থেকে মাঘরিবের আজান শুনা যাচ্ছে। এসময় গাড়ী চালক মোবাইলে কল দিয়ে জানালো গেইটের লোকজন চিৎকার চেচামেছি করছে, তাড়াতাড়ি আসেন।
উত্তরে জানালাম, আমরা খুব কাছাকাছি চলে আসছি। পার্কের ভিতরে নামার পর দেখি পার্কের লোকজন সিএনজি নিয়ে দাড়িয়ে আছেন উপরে উঠবেন বলে, আমাদের দেরি হচ্ছে দেখে।
তারা জানালো আপনাদের জন্য মূল গেইটের লোকজন আমাদের বকাবকি দিচ্ছে, দ্রুত চলে যান মূল গেইটে তালা দিবে। আমরাও নির্বিঘেœ গাড়ীর কাছে আসতে পেরে অনেকটা দুঃশ্চিন্তামুক্ত হলাম।
গাড়ী ছুটলো রামগঞ্জের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে গাড়ীর জন্য গ্যাস, আমাদের খাবার খেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় প্রানপ্রিয় রামগঞ্জে এসে পৌছলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
আগামী ঈদ উল আযহায় যাবো সবাইকে নিয়ে অপার সোন্দয্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান। সবাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।
আর এ ভ্রমনে খুব মনে পড়েছে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মাহিব মিনহাজ (সৌদি আরব), কোষাধ্যক্ষ আজাদ রহমান (সৌদি আরব), সদস্য তুষার আরাফাত (কাতার), সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহিদ শাহিন (ঢাকায় অসুস্থ) কে। কারন খৈয়াছড়া, সীতাকুন্ড ও পার্কিবীচ ভ্রমনে গত বছরের এই দিনে তারা আমাদের সাথেই ছিলেন।
নাপিত্তছড়ার তিনটি ঝরনা দেখার সহজসাধ্য মাধ্যম,,
ঢাকা ও রামগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের অথবা ব্যক্তিগত গাড়ীতে করে মিরসরাই পৌরসভা বাজার। সেখান থেকে চট্টগ্রামের দিকে সাড়ে তিন কি: মি: গিয়ে নদুয়ার বাজার/ নদুয়ারহাট। সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই ঝরনায় যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিবে ছেলে বুড়ো সবাই। যাই সাথে নিন না কেন পানি, শুকনো খাবার, এন্ড্রয়েড মোবাইল, ক‌্যামেরা কোন অবস্থাতেই নেয়া মিস করবেন না।

লেখক: মাহমুদ ফারুক, সভাপতি; রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাব,
সম্পাদক; আমার লক্ষ্মীপুর ডট কম